ডা. কে. এম. নাজমুল আহসান
মেডিকেল অফিসার,
শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, গাজীপুর
১০ ডিসেম্বর, ২০২১ ০৫:২৪ পিএম
উপজেলায় যে কারণে জটিল রোগীদের রেফার করা হয়
গত বৃহস্পতিবার (২ ডিসেম্বর) ওপিডিতে ১০-১২ বছরের একটা বাচ্চা আসে জ্বর এবং মাথা ব্যথা নিয়ে। রোগী খুব টক্সিক লুকিং এবং ডিসট্রেসড ছিল।
রোগীকে বিছানায় শুইয়ে পরীক্ষা করলাম, ঘাড় মারাত্মক শক্ত। (Neck rigidity present). দুই মিনিটেই ডায়াগনোসিসের কাছাকাছি পৌঁছে গেলাম।
Meningococcal/viral/tubercular meningitis/Encephalitis (মস্তিষ্ক অথবা এর পর্দায় প্রদাহ)। দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে না পারলে এই রোগে মৃত্যুর আশঙ্কা অনেক বেশি।
উপজেলায় এই ধরনের রোগীর চিকিৎসা করার সেটআপ নাই। তাই শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজে রেফার করে দিলাম।
রোগীর লোক বাচ্চাটাকে বাসায় নিয়ে যেতে চেয়েছিলেন। কিন্তু আমি ১০ মিনিট কাউন্সেলিং করে তাদের হাসপাতালে ভর্তির ব্যাপারে রাজি করাই।
রোগীর গার্ডিয়ানকে আমার নম্বর দিয়ে আপডেট জানাতে বললাম। আজকে (৫ ডিসেম্বর) রোগীর লোক ফোন দিয়ে বললো, আমার রেফারাল কাগজ দেখে সদর হাসপাতালের চিকিৎসকরা খুব এপ্রিশিয়েট করেছেন এবং বলেছেন, দ্রুত রেফার করার কারণে রোগীর চিকিৎসা দ্রুত শুরু করা গেছে।
এবং তাদের ডায়াগোনসিস আর আমার ডায়াগোনসিস মিলে গেছে।
জানতে পারি, রোগীর এখন জ্বর বা প্রচণ্ড মাথাব্যথা কোনটাই নাই। বাচ্চাটার উন্নতির খবর পেয়ে খুবই শান্তি লাগলো।
অনেকে অভিযোগ করেন, উপজেলায় সব ক্রিটিক্যাল রোগীদের রেফার করে দেওয়া হয়, চিকিৎসা দেওয়া হয় না। আসলে ‘রেফারাল’ পদ্ধতি হচ্ছে চিকিৎসার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
উপজেলা হচ্ছে প্রাইমারি হেলথ কেয়ার সিস্টেম। এখানে যেসব রোগের চিকিৎসা দেওয়ার সেটআপ আছে তা দেওয়া হয়। কেবল অধিকতর জটিল রোগীদের উপযুক্ত জায়গায় পাঠানো হয়।
কোয়াকের সাথে একজন রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের পার্থক্য এখানেই। একজন রেজিস্টার্ড চিকিৎসক জানেন, কোন রোগের চিকিৎসা কি এবং সেটা কোথায় সবচেয়ে ভালো হবে।